অনির্বাণ : মিঠু ব্যানার্জী।

0
100

বৌদ্ধ পূর্ণিমার ঝলসানো রূপের চাঁদ
আকাশে সোনার রঙে ভরিয়ে দিয়েছে
পৃথিবী জুড়ে নিস্তব্ধতা ,
চারিদিকে খসে পরা পলেস্তরা
আর গুল্ম লতায় ছাওয়া প্রাচীর
এখানে মনে হয় ইতিহাস কথা বলে।
নিস্তব্ধতার মাঝে তার ফিস ফাস বানী
পুরনো দেওয়ালের কোনো এক পর্ন কুটির
থেকে যেন কোন সুজাতার ইশারা
আমি মুগ্ধ হলাম তার লাবন্যে
কি অপূর্ব স্নিগ্ধ তপস্বীনী রূপ
আমাকে ভরিয়ে দেয় তার কন্ঠের মুর্ছনায়।
আমি চলি তার অঙ্গুলী নির্দেশে
সুজাতা তার চেনা পথে চলে
তার আপন ছন্দে
আমি যেন চলেছি কোন অনাম্নি নিশির ডাকে
এ কোন নগর!!
যার বৃক্ষ ছায়ায় বিদগ্ধ যুবকের আনাগোনা
গাছে গাছে সুগন্ধি ফুলের সমাহার
সুমিষ্ট মেওয়া ফলের ভারে নিমলিত বৃক্ষ
আমি চলেছি দুঃখের নির্বাণ নিয়ে
রাত দিনের বিশাখা যজ্ঞে,
এ নগর শালবন এখন আবছা অন্ধকারে
জাতকের গল্পের মতো রঙ ছড়িয়ে
হয়েছে সবুজ,
আকাশ ভেঙ্গে নেমে আসছে গম্ভীরতার সুর
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
সেই সুরের মাধুর্যে আমি
মুহূর্তে হারিয়ে গেলাম ।
চোখ খুলে দেখলাম
এ যেন কোন এক বিদগ্ধ নগর
আমি উপনিত হলাম চিরকালের পূন্যভুমি
যার দ্বারে দাঁরিয়ে সয়ং তথাগত
তার বিচ্ছুরিত আলোতে শরীর ধুয়ে যায়
যার মৈত্রী সংঘের বানীতে আমরা সুর তুলি
তার দয়া মাগি।
জেগে ওঠে মহোময় কোন প্রাচীন নগর।
তোমাকে দেখেছি সেথা হেঁটে যাচ্ছো
পুঁথিশালার পাশ দিয়ে ।
দেখেছি তোমাকে আচার্যের সামনে
দাঁড়িয়ে জোড় হাতে।
কিংবা মন্দিরের আঙিনায় বসে
মুগ্ধ চোখে দেখছো করুনা বৃষ্টি ।
তোমাকে দেখেছি গেরুয়া চরন ছুঁয়ে
নত মস্তকে।
তোমাকে দেখেছি জপমালা হাতে
নীল অঞ্জনে
দেখেছি কখনো তোমারই নাম ধরে ডাকছে
কোন এক তিষ্য রাজকুমার ।
তোমারই গুনগানে মুগ্ধ বিদুষী জীতসমা
এ প্রাচীন নগর এ আকাশ বাতাস
তোমারই রূপের কথা বলেছে আমায় ।
আমি তোমারই খোঁজে ছুঁয়েছি এ বিশ্বভূবন –সাত সমুদ্র তেরো নদী।
আজি এ পূন্য লগনে পেয়েছি,
আমি পেয়েছি তোমায় হে তাপস।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here