আদর্শ মাষ্টারমশাই : শ্রাবণী নায়েক।

0
141

ছেলেটার স্কুলের গন্ডি পেড়িয়ে
কলেজের করিডোরে প্রথম পদক্ষেপ,
পিঠে ব্যাগ, কানে হেডফোন, হাতে মোবাইল…
মোবাইলের স্ক্রিনে বিশ্বজগতের হাতছানি,
যেন কোন চৌম্বকীয় আকর্ষণে ছুটে চলেছে ছেলেটা।
ঠোঁটে সিগারেট,
ধ্যানস্থ গুগল নেটওয়ার্কে-
এ যেন এক অবুঝ উন্মাদনা।

কলেজ গেটের বাইরে ছেলেটিকে দেখে,
চেনা মুখটার দিকে চেয়েছিলেন মাষ্টারমশাই।
মোবাইলের ব্যস্ত জগৎ থেকে চোখ সরিয়ে
ছেলেটি মুখ তুলল-
অচেনা অদেখার ভনিতায়
সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে –
চলেগেল সামনে দিয়ে।
মাষ্টারমশাই মুচকি হাসলেন,
তারপর সোজা পথ ধরে বাড়ি চলে এলেন।

বিছানায় শুয়ে শুয়ে,
মনে পড়তে লাগল তার স্কুল জীবনের কথা।
সেই নাক বরাবর বই নিয়ে স্কুলে যাওয়া…
পড়া না পারলে মাষ্টারমশাইদের বকুনি…
কান ধরে শাস্তি ভোগ, মার খাওয়া…
আবার ছোট্ট কোনো ভালো কাজ করলে
পুরস্কার স্বরূপ মাষ্টারমশাইদের উৎসাহ দান ;
সস্নেহে আদর…
এ যেন জীবনের পরম পাওয়া।
এই ভেবে কেটেছে বছরের পর বছর,
গড়েছে সুদৃঢ় সম্পর্ক,
যে সম্পর্কের গভীরতা সমুদ্রের অতল গভীরতাকেও
ছাপিয়ে যায় অনায়াসে।
স্মৃতিপটে সেই পূজ্য মুখ যখনই ভেসে ওঠে
বিনম্র চিত্তে মাথা নত হয়ে আসে শ্রদ্ধায়।

চোখে জল এলো মাষ্টারমশাই এর।
তার সমস্ত কর্মজীবনের সাধনায় কি কোথাও
ত্রুটি ছিল?
তিনি কি আদর্শ শিক্ষক হতে পারেন নি?
ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লেন মাষ্টারমশাই,
স্বপ্ন এলো দুচোখ জুড়ে,
দেখলেন সেই স্কুল…
সেই ক্লাস রুম…
ছাত্রদের শান্ত চেনা মুখ… স্তব্ধতা…আনন্দ…
পাটিগণিত… বীজগণিত…
(a+b)2…

(a-b)2…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here