খড়্গপুর বিধান সভা উপনির্বাচনে বাড়ী বাড়ী প্রচারেই জোর দিয়েছেন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস।

0
136

পঃ মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- খড়্গপুর বিধান সভা উপনির্বাচনে বাড়ী বাড়ী প্রচারেই জোর দিয়েছেন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। তাদের জোট প্রার্থী কংগ্রেসের রবীন্দ্রনাথ মন্ডলের প্রচার চলছে প্রতিটি বুথের অলি গলি পথ ধরে। ৩৫ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৭ টি ওয়ার্ডের সমস্ত বুথ ধরে প্রার্থীকে সংগে নিয়ে উভয় পক্ষের কর্মীরা মানুষের সাথে দেখা করে কথা বলছেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের যন্ত্রনা আর ক্ষোভ দুইই উঠে আসছে। বাজার যে পুরোটাই ফড়েদের হাতে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে তা মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। গড়বেতাতে স্টোর থেকে বের হওয়া আলু ১২/ ১৩ হলেও খড়্গপুর শহর সহ সর্বত্র সেই আলু প্রতিকেজি ২০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। পিঁয়াজ ৭০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, রসুন ২৫০ আর সবজি সবই ৫০ বা তার উপরে।
মানুষের হাতে কাজ নেই। খড়্গপুর শিল্পাঞ্চলে ছোটো বড়ো মিলিয়ে ১৭ টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এই জমানায়। স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে ১১ হাজার মানুষের কাজ চলে গেছে। তার সংগে লোড আর আনলোড করার সাথে যুক্ত আরোও হাড়াই তিনহাজার মানুষের রুটি রুজির ক্ষেত্রও বন্ধ। প্রায় ১৭ হাজার পরিবার আজ রুটি রুজির জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে। এত কাজ হারানো মানুষের সিংহ ভাগই খড়্গপুর শহরের মানুষ। কেউ পাকার ঘরের জোগানদার, কেউ রং এর মিস্ত্রি, কেউ টোটো, অটো চালিয়ে সংসারের হাল ধরছে।আবার এক বিরাট অংশ ঠিকা শ্রমিকের কাজে কেরালা সহ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন পরিবার কে রেখে। এমন পরিবারের মানুষগুলো প্রচারে এগিয়ে আসছেন। প্রার্থী সহ কর্মীদের কাছে তুলে ধরছেন রুটি রুজির জ্বলন্ত সমস্যাগুলি। পরিবারের লোকজনই ফোন করে এখানকার নির্বাচনের তারিখ জানিয়ে দিয়েছেন। ভোটের আগে সবাই ফিরে আসবেন, বাড়ীর লোকরাই জানিয়ে দিচ্ছেন প্রচারের সময়।
রুটি রুজির সমস্যার সাথে মানুষ চাইছেন একটু শান্তি। মাফিয়া এবং দূষ্কৃতি রাজের দাপটের সাথে দুই শাষকদলের মদতে গত তিন বছরে খড়্গপুর শহরে ছোট বড় সাতটি দাঙ্গা,তাকে কেন্দ্র করে অরাজকতা,টানা দু সপ্তাহ ধরে কার্ফু জারি, দুই জনের মৃত্যু, ঘরবাড়ি লুঠ,ভাঙচুর, আগুন ধরানো এমন ভয়ংকর সন্ত্রাস সহ ভয় ভীতির পরিবেশ, শহর জুড়ে আতংক, দৈনন্দিন জীবনে রুটি রুজি সহ সমস্ত ধরনের কাজে প্রতিবন্ধকতা মানুষকে এবার ভাবিয়ে তুলেছে।
রবিবার সকাল বিকাল মিলিয়ে চারটি ওয়ার্ড জুড়ে বাড়ী বাড়ী প্রচার হয়। প্রেমবাজার, ডিবিসি, তালবাগিচা, ইন্দা, গোয়ালাপাড়া, আমডাঙা, বোষ্টপুর, বামুন পাড়া, এমন বহু স্থানে মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন এবং প্রচারে সামিল হলেন। গোয়ালাপারার রাজু গোপ, রাম ঠাকুর এমন পুরো পাড়ার মানুষ দশ মিনিট সময় চেয়ে সবাইকে বাড়ীর চা করে খাওয়ালেন। তাদের একটাই কথা, এর আগের ভোটে এক সাথে এলেন না কেনো। তৃনমূল টাকে হারাতে হবে। আর এখন মিলিত শক্তির সাহস পেয়ে বিজেপিটাকেও হারাতে চাই। আপনাদের উপর মানুষের ভরসা বাড়ছে। দীর্ঘ বছর ধরে বাপ ঠাকুরদা এখানে বাস করেছে। আমরা এর আগে এমন জুলুম দেখিনি। এই জুলুম রাজ খদম করতে হবে এমনই আবেদন নিয়ে পুরো পাড়ার মানুষ একজোট হয়ে প্রচারে সামিল হলেন এবং বক্তব্য শুনলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here