ঘুরে আসুন ওয়াং-পা ঝর্ণা।

0
546

বাঙালী মাত্রেই ভ্রমন প্রিয় মানুষ। সুযোগ পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি আমরা। আর কর্ম ব্যাস্ততার মাঝে ছুটি পেলে কেইবানা ঘুরতে যেতে চায়। গোটা পৃথিবীতে কত কিছুই না দেখার রয়েছে। প্রকৃতির এমন কিছু অপরূপ সৃষ্টি রয়েছে যা আজও মানুষকে বিস্মিত করে। সারা বিশ্ব না হোক আমাদের নিজেদের দেশের মধ্যেই দেখার রয়েছে অনেকে, তাও অনেকেই জানিনা। আসুন ঘুরে আসি বাংলাদেশের একটি মনরোমস্থানে।

বান্দরবানের গহীনে অবস্থিত একটি মনমাতানো আনন্দ নির্ঝর ঝর্ণা যা এখনও অনেকের চক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেছে, কারন যত মানুষ দামতুয়া ঝর্না দেখেছে, তার চেয়ে অনেক কম মানুষ এই ওয়াং-পা ঝর্ণায় গিয়েছে বা এর সম্বন্ধে জেনেছে। অনেকেই শুধু দামতুয়া দেখে চলে আসে। অথচ দামতুয়ার কাছাকাছিই এই ঝর্ণাটি। দামতুয়া ঝর্ণা দেখে ফিরে আসার সময় দেখে নিতে পারেন লুকায়িত এই ওয়াং-পাকে।

কিভাবে যাবেনঃ- ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল নেমে বাস অথবা চাঁদের গাড়ি করে আলীকদম বাস ষ্টেশন নামবেন। লোকাল বাসে গেলে ৭০ টাকা ভাড়া পড়বে। ষ্টেশন থেকে রিক্সা বা টমটম যোগে পানবাজার চলে যাবেন। পানবাজার থেকে ভাড়া চলিত বাইক ও চাদের গাড়ি পাওয়া যাবে৷ সেখান থেকে ১৭ কি.মি. এলাকা থেকে গাইড নিয়ে দামতুয়া রওনা দিবেন। ১০ কি.মি. এলাকায় সেনা ক্যাম্প আছে ওখানে সবার নাম এন্ট্রি করে যেতে হবে সাথে অবশ্যই ভোটার আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

২য় রুটঃ এছাড়া ঢাকা থেকে ডিরেক্ট আলিকদমের বাসেও যেতে পারেন (হানিফ প্রেফারেবল) (ভাড়াঃ ৮৫০ টাকা নন এসি)। আলিকদম গিয়ে পৌছাবেন নরমালি অ্যারাউন্ড ৮-৩০ থেকে ৯-০০। তারপরে সেখানে নাস্তা করে চান্দের গাড়িতে করে ১৭ কিলোমিটার নামক জায়গায় যেতে হবে। সেখান থেকে গাইড ঠিক করে হাটা শুরু করবেন দামতুয়ার উদ্দেশ্যে। মোটামুটি ২ঃ৩০-৩ ঘন্টা নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পৌছাবেন কাংখিত দামতুয়া ঝর্ণায়।

দামতুয়া ঝর্না দেখে ফেরত আসার সময় একটি পাড়া পরবে, যার নাম মেম্বার পাড়া। এই পাড়া ফেলে হাতের ডানে একটি সরু রাস্তা পাহাড়ের নিচের দিকে নেমে গেছে আর এই রাস্তা ধরে গেলেই দেখা মিলবে ওয়াং-পা ঝর্ণার। দামতুয়া থেকে ঘন্টা দেড়েক হাঁটার পর দেখা মিলবে ওয়াং-পার। প্রায় ৮০ ডিগ্রী খাঁড়া দেওয়ালে উঠে ঝর্নার সামনে যেতে হবে। সাথে দড়ি থাকলে সহজেই যাওয়া যাবে। বড় খাঁড়া দেওয়াল বেয়ে প্রচন্ড বেগে পানি পড়ছে ওয়াং-পার। পানি পড়ার শব্দে মুখরিত হয়ে আছে চারপাশ। তার গঠনশৈলী এনে দিয়েছে তাকে অন্য মাত্রার এক রুপ। যে রুপ অন্য কোন ঝর্নার সাথে চাইলেও মিলাতে পারবেন না। দেওয়ালে হেলান দিয়ে ইচ্ছেমত ভিজিয়ে নিতে পারবেন নিজেকে।

থাকার ব্যবস্থাঃ- আলীকদম বাজারে তিনটি থাকার হোটেল রয়েছে। আলীকদম গেস্ট হাউজ, হোটেল দামতুয়া, হোটেল আলীকদম। অবশ্যই রুম নেওয়ার আগে ভাড়ার ব্যাপারে কথা বলে নিবেন। এছাড়া আলিকদমে এসে সোজা চলে যেতে পারেন শৈলকুঠির রিসোর্টে।

খাওয়া-দাওয়াঃ- আলীকদম বাজারে মোটামুটি সবকিছুই পাবেন। এছাড়া দুপুর বা রাতের খাবারের জন্য বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল রয়েছে।

।।সংগৃহীত।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here