ঘুরে আসুন বাংলাদেশের সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা।

0
1093

ঘুরতে আমরা কে না ভালোবাসি, বিশেষ করে বাঙালিরা ভ্রমন পিপাশু। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রকৃতির রূপ রস সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে। কত কিছুই না প্রকৃতি সাজিয়ে রেখেছে তার সৌন্দর্যের ডালি। আমরা তা উপভোগ করে। কর্ম ব্যাস্ততার যুগে ক্লান্ত মনের সব কষ্ট যন্ত্রনা উড়ে যায় এক নিমেষে। কেউ ঘোরে দেশে, কেউ দেশের ছাড়িয়ে দেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। কিন্তু একদা অখন্ড ভারতের এক অংশ যা পূর্ব বঙ্গ নামে পরিচিত, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র। সেই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে এমন কিছু জায়গা রয়েছে যা পর্যটকদের নিশ্চিৎভাবে মন কাড়বে। এমনই একটি মনোরোম জায়গা হলো, সিলেটের সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা বা সেনগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা।

বর্তমান সময়ের পর্যটকদের কাছে সিলেট নামটি কেবল মাজার নয়, বরং মাধবকুণ্ড ঝর্ণা, পরিকুন্ড ঝর্ণা, জাফলং, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, উতমাছড়া, লোভাছড়া, লক্ষনছড়া, ভোলাগঞ্জ, লালাখাল আর রাতারগুলের অপরূপ সৌন্দর্যের পটভূমি। বর্ষায় সিলেট যেন তার রূপের বিচিত্র পসরা সাজিয়ে সবাইকে আমন্ত্রণ জানায় বাংলার অপার সৌন্দর্য দেখার। সবুজ চা বাগান, পাহাড় আর পিয়াইন নদী সহ ছোট-বড় কয়েকটি পাহাড়ি নদী নিয়ে সিলেট যেন কোনো রূপকথার দেশ। ঢাকায় যখন প্রচণ্ড দাবদাহে সবার প্রাণ ওষ্ঠাগত, সিলেটে তখন অবিরাম বর্ষণে জনজীবন ব্যাহত। তাই এ সময়ে সিলেট ভ্রমণ কেবল সৌন্দর্যপিপাসুর মনে তৃপ্তি আনে না, সঙ্গে আনে গরম থেকে মুক্তির স্বস্তি।

সাম্প্রতিককালে সিলেটে ঘুরে দেখার মত আরো কিছু নতুন দর্শনীয় স্থান উন্মোচিত হয়েছে। তেমনই একটি হলো সংগ্রামপুঞ্জি বা সেনগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা বা মায়াবী ঝর্ণা এবং আরেকটি হলো উৎমাছড়া। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এ ঝর্ণাটি ভারতের সীমান্তে পড়েছে। তবে বিএসএফের প্রহরায় চাইলেই বাংলাদেশীরা এ ঝর্নার চূড়া পর্যন্ত উঠতে পারে। কয়েক ধাপবিশিষ্ট এমন ঝর্না কমই দেখতে পাওয়া যায়। ঝর্ণার খানিকটা দূর থেকেই এর মেঘালয়ের পাহাড় বেয়ে বয়ে যাওয়ার গর্জন কানে আসবে। সামনে যেতেই চোখে পড়বে গাছ, পাথর আর পানির অপূর্ব মেলবন্ধন। পাহাড়ের গা-বেয়ে বেশ কয়েকটি ধারায় নেমে আসছে দুগ্ধ সাদা পানির স্রোত। কখনো সবুজ ঝোপের ভেতর দিয়ে, কখনোবা নগ্ন পাথরের বুক চিরে নেমে আসে এ পানি। ঝরনার জল এসে জমা হয়ে ছোট্ট পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে, যার তিন দিকেই রয়েছে বড় বড় পাথরের চাই। চাইলে সেই শীতল জলে ডুবে থাকতে পারেন অথবা করতে পারেন চূড়ায় ওঠার অ্যাডভেঞ্চার। ঝর্ণার তৃতীয় ধাপ থেকে কিছু পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে, আর কিছু চলে যায় বাম দিকের সুড়ঙ্গে। সুড়ঙ্গমুখের কিছুটা অংশ পর্যন্ত দৃষ্টি চলে, বাকিটা অন্ধকার। সুড়ঙ্গ পথের কোনো হদিস কারো জানা নেই। ঠাঁই পাওয়া যায় না বলে ওই পথে যাওয়া সম্ভব নয়। পিচ্ছিল পাথর আর পানি টপকে উপরে উঠতে চাই সাহস, সতর্কতা আর অবশ্যই ভালো গ্রিপের জুতা। বর্ষার সময়ে সৌন্দর্যপ্রেমী সবাই ছুটে চলে সিলেট পানে। তাই একদম নির্জনতার স্বাদ হয়তো মিলবে না তখন। তবে এখনও মাধবকুণ্ড বা বিছনাকান্দির মতো পরিচিতি না পাওয়ায় ভিড় তুলনামূলক কম হয়। ফিরতি পথে সন্ধ্যার মুখে ঘুরে আসতে পারেন হজরত শাহ পরানের মাজার।

কখন যাওয়া উচিত

জলপ্রপাতে বর্ষাকালে বেশি পানি থাকে। তাই বর্ষাকাল ঝর্ণাতে যাওয়ার উপযুক্ত সময়।

কোথায় থাকবেন

জেলা পরিষদের বাংলো ছাড়া জাফলংয়ে থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে পর্যটককে থাকতে হবে সিলেট শহরে। আর জাফলং যাওয়ার সময় খাবার সঙ্গে করে নিয়ে গেলেই ভালো হয়। কেননা খাসিয়া আদিবাসী গ্রাম সংগ্রামপুঞ্জিতে একমাত্র ক্যাফে সংগ্রাম ছাড়া জাফলংয়ে তেমন কোন ভালোমানের খাবার রেস্টুরেন্ট নেই। জাফলংয়ের জেলা পরিষদে থাকতে চাইলে সিলেট আসার আগে ফোনে রিসোর্টটি বুকিং করতে হবে।

যেতে আসতে সময় না লাগার কারনে আপনাকে আর থাকার চিন্তা করতে হবে না। সিলেটে থাকার মত অনেকগুলো হোটেল আছে, আপনি আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী যে কোন ধরনের হোটেল পাবেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here