দিদিকে বলো প্রচারে দলীয় নির্দেশ মেনে গ্রামের পর গ্রাম মাতিয়ে দিলেন ক্যানিংয়ের যুবরাজ,মধ্যাহ্নভোজ সারলেন রাজপথের ফুটপাথে।

0
75

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিংঃ—প্রবাদে আছে “যে রাঁধে সে চুলও বাঁধতে জানে”।তাই কলেজ জীবনের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠায় পরিচিতি এবং ব্যাপক সম্মানের অধিকারী হয়েও ভুলে যাননি অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষের কথা।রাজনীতির শীর্ষে উঠেও সেই সব মানুষের সুখ দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানবিক কাজ করে চলেছেন ক্যানিংয়ের যুবরাজ নামে খ্যাত ক্যানিংয়ের যুব তৃণমূল নেতা পরেশ রাম দাস।তিনি কোন রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাজ করেন না।কাজ করেন জনসাধারণের সেবায় এমনটাই অভিমত ক্যানিংয়ের নীলকন্ঠ সরদার,অনিতা নস্কর,অবনী মন্ডলদের।
এমন কর্মযঞ্জের পাশাপাশি রাজ্যের সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ সমস্যা সমাধানের জন্য রাজ্যবাসীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজ্যের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী চালু করেছেন “দিদিকে বলো” একটি ফোন নম্বর এবং ওয়েবসাইট।ইতিমধ্যে সেই ফোন নম্বরে এবং ওয়েবসাইটে ভুরি ভুরি সমস্যা অভাব, অভিযোগ সরাসরি দিদিকে জানাচ্ছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষজন। সমাধানও মিলছে।
দিদিকে বলো প্রচারের জন্য দলীয় ভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে গিয়ে তাদের অভাব অভিযোগ শুনে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা ব্যানার্জী এবং রাজ্যের যুবসভাপতি অভিষেক ব্যানার্জী দলীয় ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক,ব্লক সভাপতি সহ দলীয় নেতা কর্মীদের কে।
দলীয় সেই নির্দেশ মেনেই ক্যানিংয়ের যুবতৃণমূল সভাপতি “দিদিকে বলো” প্রচার কে হাতিয়ার করে একের পর এক গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ সমস্যা সমাধান করার জন্য দ্রুত গতিতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আর সেই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মযঞ্জ চালানোর পাশাপাশি দলীয় ভাবে সংগঠন আরো মজবুত শক্তিশালি করতে পরেশ রাম দাসের জুড়ি মেলা ভার।গত ৬ সেপ্টেম্বর দলীয় নির্দেশ মেনে প্রচারে গিয়েছিলেন ক্যানিংয়ের গোপালপুর পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর গোলকপাড়া গ্রামে। সেখানে প্রায় হাজারের ও বেশী অভাব অভিযোগ নিয়ে গ্রামবাসীরা যুবতৃণমূল সভাপতিকে ঘিরে ধরেই তাঁর কাছে ব্যক্ত করেন। সেই মুহূর্তে সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে অভিযোগ শোনার পর প্রায় ষাট শতাংশ অভিযোগের সমস্যার সমাধান করেন যুবনেতা।
আবার দলীয় নির্দেশ মেনেই প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই বুধবার সকালে ক্যানিংয়ের যুবতৃণমূল কংগ্রেস দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা জেলাপরিষদ সদস্য সুশীল সরদার,ক্যানিং ব্লক যুবতৃণমূল সহ সভাপতি অর্ণব রায়,পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম দাস,হরেন ঘোড়ুই,উপপ্রধান খতিব সরদার সহ কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকদের কে নিয়ে হাজীর হন ক্যানিংয়ের হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটপুকুরিয়া গ্রামে। সেখানে ক্ষেতমজুর মোস্তাফা মোল্ল্য,এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তি আব্দুল কাশেম মন্ডল,সমাজসেবী রফিউদ্দিন মন্ডল,শিক্ষক জাহির উদ্দিন মোল্ল্যা,স্থানীয় একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক কুতুবুদ্দিন মন্ডলদের বাড়ীর দরজায় হাজীর হয়ে এলাকার অভাব অভিযোগ সমস্যার কথা শোনেন ক্যানিং ১ব্লকের যুব তৃণমূলের নেতানেত্রীরা।পাশাপাশি গ্রামের পাঁচজনের হাতে গ্যাসের ওভেন তুলেদেন যুবতৃণমূল নেতৃত্বরা।
গ্রামের বিশিষ্ট পাঁচজন নাগরিকের অভাব অভিযোগ শোনার পর স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভাব অভিযোগ নিয়ে যুবতৃণমূল কর্মী সমর্থকদের কে ঘেরাও করে অভিযোগ করে বলেন “এলাকায় মশার দাপটে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। তাছাড়া এলাকায় পানীয়জলে এক বিরাট সংকট,শৌচালয় নেই।এলাকায় বিদ্যুৎ থাকলেও প্রায় সবসময়ই লোডশেডিং থাকে তারপর রাস্তা দিয়ে রাতের অন্ধকারে যাতায়াত করতে হয় বিপদের ঝুঁকি নিয়ে।
গ্রামবাসীদের কাছে এমন সব তীক্ষ্ণ অভাব অভিযোগ শোনার পরই হাটপুকুরিয়া গ্রামের সমস্ত বিদ্যুতের খুঁটিতে বৈদ্যুতিক আলো,পানীয় জলের ব্যবস্থা,এবং মশা মাছি কীট পতঙ্গবাহী রোগ জীবাণুর হাত থেকে যাতে করে গ্রামবাসীরা পরিত্রাণ পায় তার জন্য গ্রামের সকল পরিবার পিছু এককেজি করে ব্লিচিং পাউডার এবং একটি করে মুসারী তুলে দেন গ্রামবাসীদের হাতে।
দিদিকে বলো প্রচারের যুবনেতার এমন কর্মযঞ্জের কথা লোক মুখে চাউর হতেই পাশের গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসী এসে অভিযোগ করে বলেন “আজও অবধি আমাদের সরকারী ভাবে কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা মেলেনি। অনেকেই আবার অনাহারে,অর্ধাহারে ভাঙা ঘরের রোদ ঝড় জল মাথায় নিয়ে বসবাস করছেন।কেউ কোনদিন খোঁজ খবর রাখেন না”।এমন নির্মম অভিযোগ শোনার পর যুবনেতারা স্তম্ভিত হয়ে যান। পরক্ষণেই অসহায় গ্রামবাসীদের চাল,ত্রিপল এবং সামান্য হলেও আর্থিক সাহায্যে প্রদান করেন।
সমস্যা শোনা মাত্রই অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হওয়ায় আবেগে উৎফুল্ল গ্রামবাসীরা দুহাত তুলে মা মাটি মানুষের সরকার কে আশীর্বাদ করেন।প্রচার পর্ব চলাকালীন বুধবার দুপুরে প্রকাশ্য রাজপথেই সারেন মধ্যাহ্নভোজ। যা দেখে স্থানীয় গ্রামবাসী আকবর মোল্ল্যা,মহিনউদ্দিন সেখ,রফিকুল লস্কররা বলেন “বড় ধরনের মানবিক না হলে তৃণমূল নেতারা রাজপথে মধ্যাহ্নভোজ করতেন না।যা এক নজীর বিহীন। ”
দিদিকে বলো এমন অভিনব নজীরবিহীন প্রচারের ব্যাপারে ক্যানিংয়ের যুবতৃণমূল নেতা পরেশ রাম দাস কে জিঞ্জাসা করা হলে তিনি কোন প্রশ্নে উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গিয়ে বলেন “মা মাটি মানুষের সরকার সাধারণের পাশে ছিল এবং আগামী দিনেও থাকবে।এখানে কোন একক ব্যাক্তিত্বের একক কর্মসূচি নয়। এটা সমগ্র তৃণমূল দলের মানবিক মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রচেষ্টা। আমরা তার কর্মযঞ্জের সাধারণ সৈনিক মাত্র।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here