নারী নির্যাতনের বিভৎসতম রূপ ধর্ষণ : পঙ্কজ কুমার গাইন।

0
133

আমরা নাগরিক সমাজ এখন কেমন আছি? কোন যুগে বসবাস করছি?…. মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ না অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ ? কেমন সব বিস্মৃতি ,মেলাতে পারছি ,না শব্দের অর্থ গুলো লিখতে গেলে কলম চলছে না, হাত কাঁপছে, শব্দ বাক্য বাধনী হারিয়ে ফেলছে। না কোন  নীতি শিক্ষা, মূল্যবোধ এই মানব (পুরুষ) চরিত্রকে সংশোধন করতে পারছেনা। স্বয়ং কবি গুরুর অবিচার কবিতায় উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছিলেন।
ভারতের কোন সংশোধনাগার ও নয়।যদিও আমরা স্বাধীনতার ৭৩  বছর পেরিয়ে এসেছি আমরা স্বাধীন । এই আমরা আসলে কিছু সংখ্যক পুরুষ ও অল্পসংখ্যক -খুব অল্প সংখ্যক নারী। অর্ধেক নারী সমাজের বৃহত্তম অংশ পরাধীন। পুরুষতান্ত্রিকতার হিংস্র নখরে আজ বহুলাংশে নারীসমাজে অত্যাচারিত, নির্যাতিত, অবদমিত ও নিষ্পেষিত।
আর নিষ্ঠুরতম নির্যাতনের একটি অভিশপ্ত জঘন্য দিক হলো ধর্ষণ । যদিও ভারত মাতৃ পূজার দিশারী। বিভিন্ন দেবীর পূজা — লক্ষ্মী, সরস্বতী, দুর্গা, কালী -কে মা জ্ঞানেপূজা করা হয় পূজা করা হয়ে থাকে। প্রতিটি পুরুষের জন্ম ওই মাতৃ জঠরে।  আর ধর্ষণ নামক নিষ্ঠুর অত্যাচারটির মধ্য দিয়ে তার মাকেই প্রথম অসম্মান অপমান করা হয় ও অসম্মান করে চলছে। বর্তমান ধর্ষণ নামক রোগটি ক্যান্সারে ন্যায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে ।
     ধর্ষণ কি ? ধর্ষণ হলো কোনো পুরুষ যদি কোন নারীর সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক যৌনতৃষ্ণা  পূরণ করে, তাকে সাধারণত ধর্ষণ বলে । এখানে নারী বলতে মেয়ে শিশু, কিশোরী, বধু , বৃদ্ধা–সবাই । এখন ৫মাসের শিশু,৬মাসের শিশু,৭ মাসের শিশু ধর্ষিত– এরকম খবর পাওয়া যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রক্রিয়াটি ভিন্ন। প্রথমে চকলেট, মিস্টি খাবার ও খেলনা প্রভৃতির প্রলোভন দেখিয়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে বর্বরোচিত ধর্ষণ ক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরকম উদ্বেগের ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পুরুষের দ্বারা একটি নারী ধর্ষিত হয়ে থাকে তাকে গণধর্ষণ বলে ।এরকম ধর্ষণ ,গণধর্ষণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। এছাড়া দুজন যুবক-যুবতি প্রেমের আবর্তে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক করার পর কোন এক পর্যায়ে যুবকটি বিয়ে করতে বা যুবতী টির কোন দায়ভার নিতে রাজি না হলে সেটিও আইনত ও ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে।
গনধর্ষণ আরেকটি চিত্র দেখতে পারেন, পিছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাবো ইতিহাসের দিকে বহু ঘটনা। এরকম ঘটনার মানুষ সাক্ষী হয়ে আছে কালে কালে বিভিন্ন যুদ্দ এবং দাঙ্গার সময় বিশেষ করে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রাক্কালে 1946 সালে দেশ ভাগের সময় পাঞ্জাব ও বাংলার অগণিত নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছিল এছাড়াও একাত্তরের যুদ্ধে আড়াই থেকে তিন লক্ষ মতান্তরে 4 থেকে 5 লক্ষ নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছিল ।এবং পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমানে বাংলাদেশে সেনা কক্ষে পিতৃপরিচয় হীন বহু সন্তানের জন্ম হয়েছিল। যার যন্ত্রণা বহন করেছিল ওই ধর্ষিতা নারীরা। আবার অনেক ধর্ষিতারা সম্মান বাঁচাতে ,আত্ম-সম্মান রক্ষার্থে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল ।1946 এর  দেশভাগ বা 1971এর যুদ্ধে যে বৃহৎ সংখ্যক নারী ধর্ষিত হয়েছিল তার অত্যাচারের বিভৎসতা প্রতি দিনের প্রতিক্ষণে বিরাজ করতো, যা কখনই তাদের সুস্থ বা স্বাভাবিক জীবনাচরণ সম্ভব নয়। তাঁরা বেঁচে থেকেও মৃত। যন্ত্রণার স্মৃতি বা ট্রমা কাজ করে সর্বক্ষণ । যদিও কোন দেশের যুদ্ধে ধর্ষিতা এবং ধর্ষণে মৃতনারীরা শহীদ বা বীর সন্মানের জায়গা পায় না বা রাষ্ট্র দেয় না । ওই যন্ত্রণার ইতিহাস সত্যিই যন্ত্রণাময় । ওই দুঃস্বপ্নের যন্ত্রণা তাদের সারা জীবন তাড়িয়ে তাড়িয়ে বেড়ায় ।
কেন ধর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণ অনেক। মূল কারণ হচ্ছে নীতিবোধের বা মূল্যবোধের অভাব। অনেক সমাজতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ধর্ষণকে একটা পুরো সামাজিক ব্যাধি বা বিকৃত মস্তিষ্কের কাজ বলেছেন। অনেক সময় নেতাদের উষকানি,ধর্মনীতি ও তাদের গুর তথা এদের ধারক বাহক অনেক সময় দায়ী।  আবার অনেকেই মূলত দায়ী করেছেন সমাজ ব্যবস্থাকে। কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্তি বা নিরসনের সুদূরপ্রসারি যথোপযুক্ত পথ এখনও নেই বললেই চলে। ফলে নিরসন তো হয়নি উল্টে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন একটি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদপত্র খুললেই ধর্ষণের ঘটনা এখন একাধিক পাওয়া যায়। মনে হয় দর্শকদের কাছে ব্যাপারটি মুড়ি-মুড়কির মতো অতি সহজ । শুধু ধর্ষণ প্রমাণ লোপাটের জন্য দর্শকরা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে শেষ পর্যন্ত খুন, খুন করে অঙ্গ বিকৃতির পথ অবলম্বন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য।খবরের কাগজে ও আশেপাশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা জানলে অনেক সময়ই যন্ত্রণা হয়।ওই দৃশ্যের কথা ভাবলে  শিউরে উঠতে হয় ।

অনেকে ধর্ষকদের  পশুদের সাথে তুলনা করে থাকে কিন্তু সেটা কি ঠিক ? পশুদের ক্ষেত্রে যৌনতৃষ্ণা পূরণের বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়ে  ঘটে থাকে।  সেটা ধর্ষণ নয়।আর এক্ষেত্রে লক্ষ করার বিষয় যে ও সমাজের যৌনতৃষ্ণা পূরণ করার পর পুরুষ পশুটি  স্ত্রী পশুটিকে মেরে ফেলে না কিন্তু এই কাপুরুষ সমাজে ঐরকম খুন অজস্র দেখতে পাওয়া যায় ।শুধু কি ধর্ষণ, ধর্ষণের পর নির্মমভাবে অত্যাচার করে খুন এখন প্রায়শই দেখা যায় বা শোনা যায়। তাই ঘৃণ্য ধর্ষক কাপুরুষদের   পশুদের সাথে তুলনা করতে  আমি রাজি না। এরকম বর্বোরোচিত সহস্রাধিক ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনা  উল্লেখ করা হলো । দিল্লির কলেজ ছাত্রী নির্ভায়া গণধর্ষণ কাণ্ড । ধর্ষণ, নির্মমভাবে অত্যাচারের পর চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় ডিসেম্বর 2012 । অসহনীয় যন্ত্রণার পর মারা যায় 30 শে ডিসেম্বর 2012 তে।  যতটা জানা যায় একটি কিশোর বয়সের বালক যার নৃশংসতা ছিল সবচেয়ে বেশি।  বারাসতের কামদুনিতে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ করে খুন 2013 সালে। দুটি ঘটনার  নৃশংসতার মাত্রা ছিল চরম থেকে চরমতম। এরকম ঘটনা প্রতি নিয়ত ঘটে চলছে । ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস হিসেব অনুযায়ী 2009 থেকে 2011 সালে দেশের প্রায় 68 হাজার অভিযোগ জমা পড়ে কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় মাত্র 16000 অভিযুক্ত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
2009 সালে সারাদেশে অভিযোগ জমা পড়ে 21,397 টি।
2010 সালে সারাদেশে অভিযোগ জমা পড়ে 22272টি ।
2011 সালে সারাদেশ অভিযোগ জমা পড়ে 2 8206টি।
ঐ অভিযোগগুলির মধ্যে…2009সালে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয় 4644 টি, 2010 সালে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয় 5632টি, 2011 সালে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়5728টি।ঐ পরিসংখ্যানে আরো বলছেন ওই তিন বছরে সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছে মধ্যপ্রদেশে 9539 টি ,এর পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ । সবশেষে 2012 সালের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য লক্ষ করার শিশু ধর্ষিত হয় প্রায় 8500জন। ২০১২ সালের  এই তথ্য থেকে এমনই মনে হয় সভ্যতার সংকট বা বিপদ ধর্ষণ নামক ওই জঘন্য ঘটনা । এই ধর্ষিতার সংখ্যা(শিশু কিশোরীযুবতী,গৃহবধু,বৃদ্বা-)ক্রমবর্ধমান। প্রতিবছর সারা দেশে নিরিখে দেখেই বোঝা যাবে—-
২০০৯ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ২১৩৯৭
২০১০ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ২২২৭২
২০১১ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ২৪২০৬
২০১২ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ২৪৯১৫
২০১৪ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ৩৩৭৬৪
২০১৫ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ৩৪২১০
২০১৬ সালে ধর্ষিতার সংখ্যা ৩৯০৬৮
………………………………………………
এই ধারা অব্যাহত সাল, সরকার ও সীমাবদ্ধ নয়।
পাশ্চাত্যের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বুড়ো অভ ইনভেস্টিগেশন এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী 2011 তে আমেরিকাতে ধর্ষণের সংখ্যা 84 হাজার ।আর লন্ডনের লন্ডনের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও ব্রিটিশ রিভিউ তথ্যনুযায়ী 2010-11 তে ওই দেশের প্রায় 80 হাজার মহিলা ধর্ষিত হয়। যদিও প্রকাশ লন্ডনের তথ্য দেখে ভারতীয় দর্শকদের উল্লাস এর কোনো কারণ নেই পাশ্চাত্যে ধর্ষণের রিপোর্টগুলো যথাযথভাবে বা প্রায় ঠিকভাবে জমা করে এবং লিপিবদ্ধ হয় কিন্তু ভারতে অভিযোগ অনেক সময়ই জমা পড়ে না বা থানায় রিপোর্ট আকারে লিপিবদ্ধ হয় না ।কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে পাওয়া যায়– লজ্জা বা আড়ষ্ঠতার ও ভয়ে ( মেয়ে বা কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ বিয়ের সম্পর্কে দেশের কথা ভেবে )থানায় রিপোর্ট করার থেকে পিছিয়ে আসে। হস্তক্ষেপ বা এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের, মাতব্বরদের জন্য এর জন্য দায়ী। অনেকে অভিযোগ জানাতে বাধা দান করে। টাকা  বা মাতব্বর এর মাধ্যমে  সালিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করে । ধর্ষণের ঘটনা শুনলে বা পড়লে আতঙ্কিত হবেন যে ,  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিবেশী সদস্যরা জড়িত যেমন দাদু নাতনিকে ,শশুর বৌমাকে ,তুতো ভাই ছোট বোনকে , আত্মীয় অথবা একটু দূর আত্মীয় দ্বারা ধর্ষিত হয় । আবার মূল্যবোধ বা নৈতিকতা এতই তলানিতে ঠেকেছে যে বাবা  হয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এমন ঘটনা বিরল নয় এমন দেখা যায়। বহু ক্ষেত্রে সালিশি সভায় দর্শকরা টাকা দিয়ে মিটিয়ে ফেলতে বা ধরর্ষককে বিয়ে করার প্রস্তাবে বাধ্য করে ।
পুরুষ তন্ত্র যে  বহুলাংশে দায়ী তা ঠিক। কারণ পরিবারের পুরুষরাই নিয়ামক, প্রশাসনে বিচার ব্যবস্থায় পুরুষরা হোতা। পুরুষতন্ত্রের এই কাঠামোর নাগপাশের মতো। প্রতিকার বা সমস্যা থেকে মুক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন জনের মতামত বিভিন্ন। সাময়িক উত্তেজনায় বশতঃ দুই একজন সহকর্মী,  বন্ধু ও সহপাঠী ধর্ষককে পিটিয়ে মেরে ফেলার কথা বলেছে ।কেউ বলেছে যে – ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গকেটে ফেলা হোক। আবার কেউ বর্তমান বিচার ব্যবস্থা বিশ্বাসী, তারা চাইছে আইন মাফিক বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয় বা উচিত ,প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শাস্তি পক্ষপাতী। ধর্ষকদের শাস্তির জন্য আইন রয়েছে এটা ঠিক কিন্তু সেটা যথাযথ প্রয়োগ সর্বক্ষেত্রে হয় না। সুবিচার পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থাৎ ধর্ষিতার পরীক্ষার ব্যবস্থা — সেক্ষেত্রে ও গাফিলতির হয়েছে। বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদে মরে। একটু তাকালেই বুঝবেন ধর্ষণ করে খুন তো অনেকেই করেছে, বিচার হয়েছে।ফাঁসির ঘটনা মনে পড়বে শুধু ধনঞ্জয় এর কথা।  সম্প্রতি উন্নাও কান্ড, পার্ক স্ট্রিট কান্ড, ও পশ্চিম বাংলার অসংখ্য ধর্ষণ ও হত্যার সত্যি বহু প্রশ্ন মানুষের মনে। কিন্তু নাগরিক সমাজ বিচার ব্যবস্থায় বদল চায়  তা যে  ঘটনা বোঝা যায়  তা হলো দিল্লির মেডিকেল কলেজের ছাত্রীর ধর্ষণ ঘটনায়(নির্ভয়া ধর্ষণ কান্ড)।যদিও সেই প্রতিবাদ, সংখ্যায় ১৩৭ কোটি জনসংখ্যার  তুলনায় কম। জনগণ বেশিরভাগই  সময় চুপ করে থেকে ,প্রতিবাদ না করে ওই ধর্ষকদের শাস্তির ব্যবস্থা না করে, উৎসাহিত বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে, ঔদ্ধত্য বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। যে দুই একজন প্রতিবাদ করে,  সেই প্রতিবাদকারীরা চরম  বিপদ হয় । আমরা দেখতে পাবো পশ্চিমবাংলার গোবরডাঙ্গার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস ধর্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করায় ধর্ষকরা বরুণ বিশ্বাস কে খুন করে। এরকম মানুষ তো কোটিতে একজন। এরকম আত্মবিশ্বাস সম্পন্ন পুরুষের সংখ্যা খুব কম। তবে এরকম চরিত্র এখন দেশ ও সমাজের জন্য  ভীষণ প্রয়োজন। তাই পর্যবেক্ষণ করে লজ্জা বোধ করি ঐ সব কাপুরুষ ধর্ষকরা এই পুরুষ সমাজের পক্ষে কলঙ্ক কারণ অন্তত কিছু সুপুরুষ এবং ধর্ষণের বিরোধী মনোভাবাপন্ন পুরুষ আছে ।কাপুরুষ ও ধর্ষকদের ঘৃণা করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ ওইসব ধর্ষক পুরুষ আমাদের সমাজের প্রায় আমাদের চারপাশ পরিমন্ডিত। আমি নিরাপদ নয় , আমার আত্মীয় স্বজনেরা নিরাপদ নয়, আপনি, আপনারা নিরাপদ কিনা সেটা আপনাকে প্রশ্ন করুন। এর সাথে সাথে অসচেতন প্রতিরোধহীন নারী সমাজ ও নিরাপদ নয়। যারা নিরাপদ বেস্টনিতে থেকে  ধর্ষকদের ফাঁসি চায় না অথবা সত্যিকারের ধর্ষক দের পক্ষ অবলম্বন করে যে বিচারক বা কৌশলী, বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা চালিয়ে বিচার ব্যবস্থা কে কলংকিত করে –তাদের ঘরের মা ,মেয়েদের বা বোনদের ক্ষেত্রে ঐরকম নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটলেও  ওরকম ম্রিয়মাণ বুলি আওড়াতে পারতো? তাই বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে ভাবার সময় এসেছে ,বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। চলমান ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। প্রসাশনিক ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমি বলছি না রাতারাতি  সব কিছু পাল্টে যাবে। আমি বলছি না আলাউদ্দিন খিলজির মতো কোনো দোকানদার ওজনের কম দিলে  সম পরিমাণ মাংস দোকানদারের গায়ের মাংস কেটে দিতে হবে অথবা  চিন সরকারের মতো শিশুদের খাবার দুধে ভেজাল দেওয়ার ফলশ্রুতিতে ওই দুধের কোম্পানির মালিক কে প্রকাশ্যে ফাসির মতো ফাঁসি।বলতে চাইছি যারা অন্যায় করে, ধর্ষণ করে, ধর্ষণ করে খুন করে উদ্ধত বাড়িয়ে চলছে আর একটা ধর্ষণ করা ,অন্যদেরকে উৎসাহিত করার বা উৎসাহ দিচ্ছে এটা থামানো দরকার । একজন ধর্ষক সংশোধনাগারে বসে সে শিক্ষা পেয়ে সংশোধিত হবে, এখনো সেই শিক্ষা পায়নি বা যথেষ্ট নয়। চরম কষ্টের বিষয় হলো সংশোধন– শিক্ষিত– সচেতন হতে হতে সহস্র–লক্ষাধিক নিষ্পাপ শিশু- কিশোরী ও নারী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন।
। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ আছে ।ফলে সে দায় রাষ্ট্র অস্বীকার করতে পারে না। সে যে নীতিগতজায়গায়  মূল্যবোধ তৈরি হয়নি, তার নীতিবোধ তৈরি হয়নি সে জায়গাটাও, অভিভাবক, সংস্কৃতি , শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকার  ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি তার ফলশ্রুতিতে অসংখ্য কন্যা, শিশু, যুবতী ,গৃহবধূ তারা ধর্ষণের শিকার এবং খুনের শিকার হচ্ছেন। যুক্তি আপনিও মানবেন , ধর্ষক খুনী তাদের জেলের মধ্যে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আপনার আমার করের পয়সায় কেন, দরিদ্র জনগণের টাকায় কেন, ওই ধর্ষকের পরিবার ও কর বা  রাজস্ব দিচ্ছে সেই টাকায় কেন, বিচারের নামে প্রহসন। অপরাধী খরচ বহন – জেলের মধ্যে খাবার, চিকিৎসা সেবা, ব্যবস্থার এসব ধর্ষিতার পরিবার ও ধর্ষণ বিরোধী মনোভাবাপন্ন  নাগরিকদের করের টাকায় কেনো?একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে না এরকম সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ দেখতে চাই যাতে আরও ৭৩ বছর পর কোনো পবিত্র শিশুরাও প্রশ্ন না করে যে তাদের পূর্বপুরুষরা কিরকম নৈতিকতা ,মূল্যবোধ ও জ্ঞান-গরিমা পূর্ণ জীবন যাপন করত এটা আমাদের কাছে এক ঐতিহাসিক লজ্জার ব্যাপার ।

তথ্য সূত্র:’ এই সময়’ এবং ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’
(বিঃ দ্রঃ: ২০১৭ ও ২০১৮ সালের তথ্য পুরো পাওয়া যায় নি)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here