পিতৃ পরিচয় ও সম্পত্তির অধিকার চাওয়ায় বেধড়ক মারধোর স্ত্রী, সন্তান কে।

0
91

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং —একবিংশতি বর্ষে দাঁড়িয়ে নিজের জন্ম অধিকার পিতৃ পরিচয় ও সম্পত্তির অধিকার চাইতে গিয়ে খোদ পিতৃদেবের কাছে পৈশাাচিক ভাবে আক্রান্ত হল সন্তান,পাশাপাশি স্ত্রীকে ও বেধড়ক মারধোর করার অভিযোগ উঠলো খোদ স্বামীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকালে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জীবনতলা থানার তাম্বুলদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮ নম্বর নাগোরতলা গ্রামে।
গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে মা ও ছেলে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে গতপ্রায় ২৪ বছর আগে নাগোরতলা গ্রামের বিমল সরদার গ্রামেরই পাষাণী সরদার কে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়ীতে চলে যায় পাষাণী সরদার। এর বছর দুই পর গ্রামের অপর এক মহিলা সবিতা সরদার কে বিয়ে করেন বিমল সরদার।সবিতাকে বিয়ে করলেও পাষাণীর কাছে অবাধ যাতায়াত ছিল বিমলের।
বিমলের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর এক পুত্র ও তিন কন্যা রয়েছে,অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সবিতা সরদারের এক কন্যা ও এক পুত্র।যদিও এক বছর বয়সে সবিতা দেবীর কন্যার মৃত্যু হয়।
এরপর বিমল তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে কলকাতায় ভাড়া বাড়ীতে বসবাস শুরু করে।স্ত্রী সবিতা দেবী কোন রকমে পরিচারিকার কাজ করে স্বামী সন্তানের অন্ন সংস্থানের জোগাড় করেন।ইদানিং বছর দশেক আগে থেকে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান অসিত সরদারের উপর পৈশাচিক অত্যাচার শুরু করে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কাছে ফিরে আসে।অভিযোগ মাঝে মধ্যে নানান ছল চাতুরী করে সবিতা দেবীর উপর অত্যাচার চালিয়ে চলে আসতো বিমল।এদিকে সবিতা দেবীর বছর তিনেক আগে বড় ধরনের টিউমার অপারেশন করতে খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। অগত্যা সাহায্যের জন্য পাশে কাউকে না পেয়ে কলাবিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সবিতা দেবীর সন্তান অসিত সরদার আর্থিক অনটন ও মায়ের অপারেশনের জন্য পড়াশোনা বন্ধ করে দিনমজুরের কাজ করতে থাকেন।আবার বিভিন্ন জায়গায় কাজের খোঁজে গিয়ে অসিতের সমস্যা হয় পিতৃ পরিচয় নিয়ে।এদিকে বিমল সরদারের কাছে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে এবং সন্তানকে পিতৃ পরিচয় স্বীকৃতির দাবীতে বিমলের বাড়ীতে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সন্তান গেলে তাদের কে বিভিন্ন সময় বেধড়ক মারধোর করে তাড়িয়ে দেয় বিমল।গত সোমবার সবিতা দেবী ও তার সন্তান নায্য অধিকার পেতে বিমলের কাছে গেলে বিমল ও তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী পাষাণী,সন্তান উৎপল সরদার সহ প্রতিবেশী শ্যামল,অমর,রাজেশ ও অপোষ সরদার’রা সবিতা দেবী ও তার সন্তান অসিত সরদার কে কোন সম্পত্তি ও পিতৃপরিচয় দিতে অস্বীকার করে লাঠী,রড,বাঁশ দিয়ে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধোর করে সবিতা দেবীকে। সেই সময় মা কে অত্যাচারের হাত থেকে উদ্ধার করতে গেলে অসিত কে ও বেধড়ক মারধোর করে অভিযুক্তরা।ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলে অন্যান্য প্রতিবেশীরা মা ও সন্তান কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় খুঁচিতল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। মা ও সন্তানের মাথায় গুরুতর আঘাত হওয়ায় তাদের অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।বর্তমানে মা ও সন্তানের অবস্থা আশাঙ্কাজনক হওয়ায় তারা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।মা ও সন্তানের অসহায়ের কথা জানতে পেরে তাদের পাশে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার বিধায়ক শওকাত মোল্ল্যা।
স্বামীর অত্যচারে জর্জরিত সবিতা দেবী ও তার সন্তান পিতৃপরিচয় ও সম্পত্তির অধিকার পেতে জীবনতলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ ও জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য অসহায় হয়ে পড়ে মা ও সন্তান।এমন খবর এলাকার বিধায়ক শওকাত মোল্যার কাছে পৌঁছালে তিনি ঐ অসহায় পরিবার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে চাল দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সবিতা দেবী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here