পুরুলিয়া জেলার সংস্কৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে করম পূজা উপলক্ষে করমনাচের আয়োজন পুরুলিয়া জেলার কেন্দা ডুঙরি করম আখড়া কমিটির।

0
251

পুরুলিয়া, শিবপ্রসাদ মন্ডল:- পুরুলিয়া জেলার সংস্কৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে গত চার বছর ধরে করম পূজা উপলক্ষে করমনাচের আয়োজন করে আসছে পুরুলিয়া জেলার কেন্দা ডুঙরি করম আখড়া কমিটি|কেন্দা ডুঙরি করম আখড়ার সভাপতি সৃষ্টিধর মাহাতো করম পূজার বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে বলেন আখড়ার করম উৎসবের সময় সমস্ত রাত ধরে সুর্যোদয় পর্যন্ত সম্মিলিত ভাবে ভাদরিয়া ঝুমুর গান ও যৌথ নাচ পরিবেশিত হয়। এই নাচে শুধুমাত্র অবিবাহিত ও প্রথম বছরের নববিবাহিতা মেয়েরাই অংশ গ্রহণ করতে পারেন। নৃত্যশিল্পীরা অর্ধবৃত্তাকারে হাত ধরাধরি করে এক পা এগিয়ে পিছিয়ে জাওয়া ডালিগুলিকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে ঘুরে নৃত্য করেন। একজন উচ্চস্বরে গান শুরু করার পরে নৃত্যশিল্পীরা গান শুরু করে ধীরে ধীরে গানের সুর নামিয়ে আনেন। একই কথা বারে বারে গাওয়া হয়। মেয়েদের পড়নে শাড়ি; রূপার গহনা ও মাথায় ফুল। করম নাচে গৃহকাজ কৃষিকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়।

প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে করম পরব উৎসব হয়ে থাকে। এর সাতদিন আগে মেয়েরা ভোরবেলায় শালের দাঁতন কাঠি ভেঙে নদী বা পুকুরে স্নান করে বাঁশ দিয়ে বোনা ছোট টুপা ও ডালায় বালি দিয়ে ভর্তি করেন। তারপর গ্রামের প্রান্তে একস্থানে ডালাগুলিকে রেখে জাওয়া গান গাইতে গাইতে তিন পাক ঘোরে। এরপর তাতে তেল ও হলুদ দিয়ে মটর, মুগ, বুট, জুনার ও কুত্থির বীজ মাখানো হয়। অবিবাহিত মেয়েরা স্নান করে ভিজে কাপড়ে ছোট শাল পাতার থালায় বীজগুলিকে বুনা দেন ও তাতে সিঁদুর ও কাজলের তিনটি দাগ টানা হয়, যাকে বাগাল জাওয়া বলা হয়। এরপর ডালাতে ও টুপাতে বীজ বোনা হয়। এরপর প্রত্যেকের জাওয়া চিহ্নিত করার জন্য কাশকাঠি পুঁতে দেওয়া হয়। একে জাওয়া পাতা বলা হয়। যে ডালায় একাধিক বীজ পোঁতা হয়, তাঁকে সাঙ্গী জাওয়া ডালা এবং যে ডালায় একটি বীজ পোঁতা হয়, তাঁকে একাঙ্গী জাওয়া ডালা বলা হয়। যে সমস্ত কুমারী মেয়েরা এই কাজ করেন, তাঁদের জাওয়ার মা বলা হয়। বাগাল জাওয়াগুলিকে লুকিয়ে রেখে টুপা ও ডালার জাওয়াগুলিকে নিয়ে তাঁরা গ্রামে ফিরে আসেন। দিনের স্নান সেরে পাঁচটি ঝিঙাপাতা উলটো করে বিছিয়ে প্রতি পাতায় একটি দাঁতনকাঠি রাখা হয়। পরদিন গোবর দিয়ে পরিষ্কার করে আলপনা দেওয়া হয় ও দেওয়ালে সিঁদুরের দাগ দিয়ে কাজলের ফোঁটা দেওয়া হয়। পুরুষেরা শাল গাছের ডাল বা ছাতাডাল সংগ্রহ করে আনেন। গ্রামের বয়স্কদের একটি নির্দিষ্ট করা স্থানে দুইটি করম ডাল এনে পুঁতে রাখা হয়, যা সন্ধ্যার পরে করম ঠাকুর বা করম গোঁলায় এবং ধরম ঠাকুর হিসেবে পূজিত হন। কুমারী মেয়েরা সারাদিন উপোষ করে সন্ধ্যার পরে থালায় ফুল, ফল সহকারে পূজা করেন |মেলা কমিটির সদস্য তথা শিক্ষক উত্তম মাহাতো বলেন এদিন করম নাচে একশত সত্তরটি দোল অংশগ্রহণ করে, প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ী দলগুলির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, তিনি আরও বলেন এই মেলার জন্য যাবতীয় খরচ এলাকার জনগণই বহন করে|উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো যারা বা যে দল গুলি পুরুলিয়ার সংস্কৃতি বাঁচার জন্য এই করম নাচ করছে তাদের বেশিরভাগ শিল্পীই পশ্চিম বঙ্গ সরকারের শিল্পীভাঁতা পান না বলে জানালেন ফুলমনি মাহাতো,মনীষা মাহাতো,কাজল মাহাতো,বৈশাখী সহিস, কলাবতী মাহাতো প্রমুখ করম নৃত্য দলের প্রধানেরা|অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী মাননীয়া সন্ধ্যা রানী টুডু,পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুর্মী সমাজ এর সভাপতি বংশী ধারী মাহাতো প্রমুখ ব্যাক্তিগণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here