বাংলাদেশের দুর্গা পূজা।

0
961

ঢাকা-বাংলাদেশ, সুরভি জাহাঙ্গীরঃ- আগামী বৃহস্পতিবার দুর্গা দেবীর বোধন ও শুক্রবারের মহা ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করেছেন শিল্পীরা । পূজামণ্ডপ সহ আশেপাশের এলাকায় বাহারি রঙের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এবারের পূজার থিম

প্রকৃতির রত্ন সাজাবো যত্নে

পরিবেশবান্ধব পোড়ামাটি দিয়ে মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে! বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের নতুন করে তুলে ধরাই ছিল এবার পূজার প্রতিবাদ প্রতিপাদ্য বিষয়। উপজেলা, জেলা , শহরগুলিতে শহর থেকে আবার রাজধানী শহরেও এই প্রতিপাদ্য মাথায় রেখেই তারা পূজামণ্ডপ সাজিয়েছেন।

প্রতিবারের তুলনায় এবার পূজার সংখ্যা আরো বেড়েছে। এদিকে পূজা মন্ডবে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ পরিদর্শনে এসেছেন রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ।
দেশের সার্বিক অগ্রগতির সঙ্গে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে দুর্গাপূজার চেতনা কাজে লাগাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি আরো বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বনানী পূজা মন্ডপ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপ্রতি আশা প্রকাশ করেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজ থেকে অসত্য অবিচার অন্যায় দূরীকরণে দুর্গাপূজার চেতনা কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রপতি ব্যাখ্যা করেন, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় বিষয় নয় একে আন্তর্জাতিক উৎসব হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দুর্গা উৎসবে সুদীর্ঘকাল ধরে বাঙালি জাতির বহুদিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বহন করে চলেছে। জাতির মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এবার আসি শারদীয় উৎসবের উৎসবে মুখরিত কিছু কথা নিয়ে

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।শুরু হয় ষষ্ঠী পূজা দিয়ে গতকাল থেকে। ষষ্ঠীতে অর্থাৎ দুর্গোৎসব শুরু দিনে দেবী দুর্গা শ্বশুরবাড়ি কৈলাশ থেকে কন্যারূপে বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্তলোকে আসেন চার সন্তানকে সাথে নিয়ে।চার সন্তান বিদ্যার দেবী সরস্বতী দেবী লক্ষী সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং পৌরুষের প্রতীক কাত্তিক। পুরাণে আছে অশুভ ও অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতাৱা স্বর্গলোক হারিয়েছিল।এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হয় এক মহাশক্তির আবির্ভাব দেবতাদের তেজস্বী থেকে আবির্ভূত হন অসুরবিনাশিনী দেবীদুর্গা।

এবার আসি রাজধানী কয়েকটি পূজামণ্ডপ ও ভক্ত সমাগম নিয়ে।

গতকাল সকালের দিকে রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে ততটা ভিড় না থাকলেও বিকেলের পর ভক্ত দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে মণ্ডপগুলোতে আলোক সজ্জিত হয়ে ওঠে। ভক্ত সমাগম বাড়তে থাকে। ঢাকেরশ্বরী মন্দির, জাতীয় মন্দির রামকৃষ্ণ মিশন, কলাবাগান ও বনানী রমনা কালী মন্দির ও খামারবাড়ি সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে।

দুর্গ উৎসবে আজ শনিবার মহাসপ্তমী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আজ সকাল ৯ টা থেকে ৫৮ মিনিটে সপ্তমী পূজা শুরু হয়েছে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শুরু হয়েছে ভোর ৫ টা ৫০ মিনিটে মহাসপ্তমী ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ১৬ টি উপাচারে এ দেবীর পূজা হয়।
সেইসঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবদ্য, চন্দন, পুস্পমাল্য স্নানীয় দিয়ে দেবীর পূজা করেন ভক্তরা।

এবার আসি মণ্ডপ গুলি নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে

এদিকে দুর্গাপূজার উপলক্ষে পূজামণ্ড গুলির নিরাপত্তা সম্পর্কে জেলা, উপজেলা এবং মফস্বল শহরের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শান্তি ভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রাজধানীর ডিএমপি পুলিশ কমিশনার বলেছেন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ধর্মীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সমস্ত দিক থেকে নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেকটা মন্দিরে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাহিনী ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

সব শেষে আমি ‘ সুরভি জাহাঙ্গী’ এপার বাংলা ওপার বাংলার ‘দুর্গাপূজাৱ’ সার্বিক মঙ্গল কামনা করে শেষ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here