বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে ক্যানিংয়ে কলাকল্পের প্রতিমা ভাসছে সুরের আকাশে।

0
379

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিংঃ—সুন্দরবনের সোঁদা মাটির লোনা জলের নীল আকাশের স্নিগ্ধতায় সোনালী রোদ্দুরের রং,দুর্বাদলের ওপর ভোরের শিশির,বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ,মাতোয়ারা আগমনী দুর্গোৎসব।শরতের চিরন্তন পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবনের সিংহদূয়ার ক্যানিং-১ ব্লকের গান্ধীকলোনী গ্রামবাসী বৃন্দের এবং কলাকল্পের পরিচালনায় সুরের আকাশে থিম হিসাবে ফুটে ওঠেছে।৪২ তম বর্ষ এই পুজোকে ঘিরে শুধু সুন্দরবন নয়,শহরতলি এলাকায়ও বেশ পরিচিত হয়েছে এই পুজো।শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মেনেই নিষ্ঠা সহকারে এই দুর্গাপুজো চলে আসছে।শুধু মন্ডপ থিমের নয়,প্রতিমাও তৈরি হচ্ছে থিমের ওপর।অধর্মের পরাজয়,ধর্মের জয় আদলে প্রতিমা তৈরি করছে মৃৎশিল্পী রাজেশ্বর সরদার।স্বয়ং মা অন্নপূর্না রুপে দেবীদুর্গা কে মন্ডপে শান্তিরুপিনী দশভুজা হিসাবে দেখানোর এক অনবদ্য প্রায়স।বিগত বছরের সঙ্গে এবছরও শহরের থিম পুজোগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে সুন্দরবনের পুজো কমিটিগুলির।পুজো এই একটি শব্দই দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আপামর বাঙালির মনে শারদীয়ার হিমেল বাতাসের কাশফুলের দোলা আর শিউলি ফুলের গন্ধ এনে দেয়।সারা বছরের সমস্ত রকমের অবসাদ আর গ্লানির উপশম তারা খুঁজে পায় এই একটি শব্দের মধ্যে।তাই কলাকল্পের থিমে উঠে এসেছে সুরের আকাশে মন্ডপ।বাংলা তথা ভারতবর্ষ জুড়ে হারিয়ে যাওয়া কুটির ও হস্ত শিল্পকে ফিরিয়ে আনার এক অনবদ্য কারুকার্য্যের প্রায়স।সাধারণ মানুষের মধ্যে আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই শিল্পনিপূণ।প্রায় জনা ত্রিশ কর্মী নিয়ে বাঁশ,বাটাম,প্লাইউড বোর্ড,চট,ত্রিপল,দড়ি,ফেলে দেওয়া সমস্ত রকম বাদ্যযন্ত্রের সরঞ্জাম দিয়ে গড়ে তুলেছেন এই অসাধারণ মন্ডপ।আর এই মন্ডপটি কে সুরের আকাশে ভরিয়ে তুলছে শিল্পী সুনীল জানা কারুকার্য্য।কলাকল্পের পুজো কমিটির সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা,সভাপতি গোকুল মন্ডল বলেন এবার “এই পুজো ৪২ তম বর্ষে পদার্পণ করল।সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় মতে পুজো হয়।আর পুজোকে সার্থক করে তুলতে গ্রামের মহিলারাও এগিয়ে এসেছেন।কুটির ও হস্ত শিল্পেকে আকর্ষন করে তুলতে এবছর সুরের আকাশে থিম হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাঁশি, তবলা,গিটার,হারমোনিয়াম,পিয়ানো,খোল,করতাল,সারেঙ্গি, দোতারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি হয়েছে মন্ডপ।পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে সাংস্কৃতিক মঞ্চে থাকছে দুঃস্থ শিশুদের বস্ত্র , বৃক্ষ বিতরণ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here