বিশ্বের বৃহত্তম বিখ্যাত ব-দ্বীপ সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং ষ্টেশনের যাত্রী পরিষেবার দশা বেহাল।

0
192

সুভাষ চন্দ্র দাশ ঃ ক্যানিং ঃ—নামেই মডেল ষ্টেশন।বিশ্বের বৃহত্তম বিখ্যাত ব-দ্বীপ সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং ষ্টেশনের যাত্রী পরিষেবার দশা বেহাল। ১৮৬২ সালের ২ রা জানুয়ারী প্রথম ক্যানিং থেকে ট্রেন ছাড়ে। ইতিহাসের সাক্ষী বহন করা ছাড়া আর কিছুই নেই। একদা বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর হ্যামিলটন সাহেবের ডাকে সাড়া দিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং ষ্টেশন হয়ে গোসাবায় গিয়েছিলেন ১৯৩২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সেই দিনটি আজ বিরল ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে।সেই সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার কিংবা সিংহদুয়ার ক্যানিং ষ্টেশন নামেই মডেল,বিভিন্ন সমস্যায় আজ জর্জরিত।
প্রখর রৌদ্রের তাপে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে ট্রেন ধরতে হয় সাধারণ নিত্য যাত্রীদের কে। মডেল ষ্টেশন হলেও নেই কোন যাত্রী প্রতিক্ষালয়,নেই পর্যাপ্ত যাত্রীশেড,পানীয় জলের সমস্যা প্রকট এছাড়াও শৌচালয়ের অবস্থাও করুণ। সুন্দরবনের অন্যতম প্রবেশদ্বার ক্যানিং মডেল ষ্টেশনে যাত্রী পরিষেবা নিন্মমানের হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রীরা।
উল্লেখ্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ক্যানিং ষ্টেশনের গুরুত্ব বুঝে একাধিক প্রকল্প পরিকল্পনা করেছিলেন। তারপর শুধুমাত্র রিজার্ভেশান টিকিট কাউন্টার ছাড়া বাকী কোন কাজই হয়নি।স্বাধীনতার আগে তৈরী এই ক্যানিং ষ্টেশনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বলতে কিছুই নেই। এই ষ্টেশনে ১২ কামরা বিশিষ্ট ট্রেন চলাচল করে,ট্রেন ষ্টেশনে ঢুকলে মাত্র দুটি কামরা শেডের সুবিধা পায়,অবশিষ্ট কামরার যাত্রীদের খোলা আকাশের নীচেই নামতে হয়।অন্যদিকে যাত্রী প্রতিক্ষালয় না থাকায় চরম সমস্যা মা-শিশু সহ রোগীরা।মঙ্গলবার সকালে প্রত্যন্ত সুন্দরবনে গোসাবার পাখিরালয় থেকে শুভজিত মন্ডল তার বাবাকে নিয়ে আইডি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার জন্য ক্যানিং ষ্টেশনে আসেন। কিডনী জনিত সমস্যা থাকায় শুভজিতের বাবা সহদেব মন্ডল ষ্টেশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। যাত্রী প্রতিক্ষালয় না থাকায় দীর্ঘক্ষণ প্লাটফর্মের ফুটপাথে শুয়ে পড়ে থাকেন সহদেব মন্ডল।
নিত্যযাত্রী তপন মন্ডল,তাপস সরদার,পলাশ কর্মকার’রা বলেন “ক্যানিং ষ্টেশনের অবস্থা দেখলে দুঃখ হয়। রেলের কোন নজরদারী নেই। তাই সাধারণ যাত্রীরা নুন্যতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।এই ক্যানিং ষ্টেশন দিয়ে নানান ধরনের সবজী চাষীরা কলকাতায় নিয়ে যান। তাদের কে ক্যানিং ষ্টেশনে এসে চরম বিপর্যয়ে পড়তে হয় বুকিং করার জন্য। চাষীরা জানিয়েছে ক্যানিং ষ্টেশনে টিকিট পরীক্ষক না থাকার কারনে টিকিট কাউন্টারে বুকিং করতে গেলে সেখানে বুকিং দেওয়া হয় না,যার ফলে বুকিং করার ইচ্ছা থাকলেও মালের বুকিং করতে না পারার জন্য অন্যান্য ষ্টেশনে ব্যবসায়ীদের হয়রানীর শিকার হতে হয়। কবে ফিরবে ক্যানিং ষ্টেশনের হাল?এমনই জিঞ্জাসা নিত্য রেলযাত্রীদের।
সাধারণ যাত্রীদের আরো অভিযোগ “ক্যানিং ষ্টেশনে রেলের কোন আধিকারীক যদি পরিদর্শনে অাসেন তাহলে শৌচালয় থেকে শুরু করে সমগ্র ষ্টেশন চত্বর ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করে ব্লিচিং ছড়ানো হয়। পরে আবার পুরাতন নিয়মে ফিরে যায়। নুন্যতম যাত্রী পরিষেবা থেকে বঞ্চিত এই ক্যানিং ষ্টেশন।
বিশেষ সুত্রে জানা গেছে এই ক্যানিং ষ্টেশন থেকে প্রতিদিনই হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ফলে রেল প্রায় প্রতিদিনই এই ক্যানিং ষ্টেশন থেকে সাত লক্ষ টাকা আয় করে থাকলেও সাধারণ যাত্রীরা সঠিক পরিসেবা না পেয়েই ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে পূর্বরেলের এক আধিকারীকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজী হননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here