মাধ্যমিক পরীক্ষা আসন্ন, কিভাবে পড়লে ভালো ফলাফল করা যাবে, আলোচনায় অভিজিত গাঙ্গুলী।

0
784

মাধ্যমিক পরীক্ষা আসন্ন,হাতে সময় খুব কম।যদিও এই দিনগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তোমাদের জীবনে।একটু মাথা ঠান্ডা রেখে পড়লে সাফল্য হাতের মুঠোয়।আজকের আলোচনা এই দিনগুলোতে তোমাদের কিভাবে পড়লে ভালো ফলাফল করা যাবে।আলোচনায় অভিজিত গাঙ্গুলী।
(১)Study in intervals(একটানা পড়ার দরকার নেই):-বুঝে বুঝে বিষয়বস্তু পড়বে,যাতে বিষয়টি তোমরা নিজেরাই লিখতে পারবে।একটানা ২/৩ ঘন্টা পড়বে না,এতে মাথায় অযথা চাপ তৈরী হয়।ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই পড়ার সময় ৩০মিনিট অন্তর বিরতি নিয়ে পড়বে ,আশা করি তোমাদের কাজে আসবে।
(২)Stop overnight study( রাত জেগে পড়ার দরকার নেই):-পরীক্ষার ১৫দিন আগে রাত জেগে পড়ার দরকার নেই।তাহলে সব ভুলে যাবে।ঠিক রাত ১০ তে ঘুমাতে,প্রয়োজনে ভোরে পড়াশোনা করবে,অযথা টেনশন করবে না।মাথা ঠাণ্ডা রাখো।
(৩)make a routine for study(পড়ার একটা রুটিন তৈরী করো):-আগেই বলেছি যে এই দিনগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তোমাদের জীবনের জন্য।এই দিন গুলোর জন্য নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী পড়ার জন্য একটা সময় তৈরী করে নাও।ভুলে গেলে চলবে না এই পরীক্ষা তোমাদের সাফল্যের প্রথম সোপান।
(৪) Revise more and more(অনুশীলন কর বার বার):-যা যা পড়েছো টেস্ট পেপার ধরে ধরে ধারাবাহিক ভাবে অনুশীলন করো,সাফল্য পেতে হলে এর কোনো বিকল্প পথ নেই।অঙ্ক বেশী সময় নিয়ে অনুশীলন কর সাথে ইংরেজি ।
(৫)speed up your hand writing(হাতের লেখার গতি বাড়াও):-মাধ্যমিক পরীক্ষা শুধু বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার পারদর্শিতা নয়।তোমার খাতাটিকে সেরা হিসাবে উপস্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।বাড়িতে ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দাও নিজে নিজেই।তুমি নিজের সেরা শিক্ষক/শিক্ষিকা।ভুল সংশোধন করে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে নিজেকেই।পরীক্ষা দিলে হাতের লেখার গতি বাড়বে সাথে বানান ভুল কমবে,সময়ের কোনো সমস্যা হবে না।
(৬) practice math with special caring to science Group(অঙ্ক এবং বিজ্ঞান বিষয়গুলো তে বাড়তি নজর দাও):-আগেই বলেছি অঙ্ক সময় নিয়ে অনুশীলন করো,একটা অঙ্ক অনেক বার।formula গুলো মাথায় রাখো।বিজ্ঞান বিষয়গুলো বেশী নজর দাও কারন এই বিষয়ে গুলোতে ৯৯/ নম্বর পেতে পারো খুব সহজেই।
(৭)টেস্ট পেপার অনুশীলন:- ABTA/WBTA টেস্ট পেপার এর পেজ গুলো অনুশীলন করো,অনুশীলন করতে করতে নিজেরাই বুঝতে পারবে এইবারের পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোনগুলো।
(৮)মোবাইল/ফেসবুক থেকে দূরে থাকো:-এই দিনগুলোতে মোবাইল ফেসবুক থেকে দূরে থাকো।জীবন সুন্দর মুহূর্ত অপেক্ষা করছে তোমাদের জন্য।সিদ্ধান্ত তোমাদের এই দিনগুলোতে একটু কষ্ট করে সারা জীবন সুখে থাকবে নাকি এই সময় নষ্ট করে বাকী সময় কাঁদবে।জীবন তোমার ,সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে।
(৯)প্রতিযোগিতা মূলক মনোভাব গঠন:-কারোর জন্য নয়,ভালো ফলাফল করতে হবে নিজের জন্য।নিজের সেরাটা দাও,নিজেকে মেলে ধরো নিজের জন্য,দেখবে তুমিই জিতে গেছো।মানসিক ভাবে তৃপ্তি আসবে অনেকটা।
(১০)সুন্দর জীবন গঠন:-জেদ নাও নিজের কাছেই।দেখবে কোনোদিন কোনো পরীক্ষায় হারবে না।অনেক সরকারি চাকরিতে মাধ্যমিক পরীক্ষার নাম্বার দেখা হয়।মাধ্যমিক পরীক্ষার নাম্বার দেখে বহু সরকারি চাকরিতে সরাসরি সুযোগ পাওয়া যায়।পরিশ্রম করো,সঠিক পরিকল্পনা তোমাদের ভবিষ্যতের সুনাগরিক করে তুলবে।
(১১)মানসিকতা গঠন:-মাধ্যমিক পরীক্ষা আসন্ন,সময় খুবই কম,কিন্তু মনে রাখতে হবে এই দিনগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তোমাদের জীবনে।জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা।আগের পরীক্ষাগুলোতে কত নম্বর পেয়েছো কেউ দেখবে না,এই পরীক্ষা হল তোমাদের জীবনে সফলতার প্রথম পদক্ষেপ।পড়ার সাথে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে,কারন পড়ার সাথে সাথে উপস্থাপনা খুবই প্রয়োজন।

(১২)ভুল সংশোধন:-বেশী করে টেস্ট পেপার অনুশীলন করো।নিজে বাড়িতে বসেই ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দাও,নিজেই ভুল গুলো সংশোধন করো।
উপস্থাপনা:- সবচেয়ে বড় বিষয়।খাতায় কাটাকুটি একদম চলবে না।হাতের লেখা খুব সুন্দর দরকার নেই,কিন্তু বড় বড় করে লিখবে ,যেন বোঝা যায়।বানান ভুল করা চলবে না,এতে পরীক্ষকের তোমার প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরী হতে পারে।একটা সুন্দর খাতা উপস্থাপনা তোমাদের জন্য খুব দরকার,কারন এতে তোমাদের জীবন খুব সুন্দর হবে।উত্তর দিতে হবে point to point.
(১৩)ভয় পেও না:-দমবন্ধ মনোভাব তৈরী করবে না,ভয়হীন ভাবে পরীক্ষা দাও।ভালো ফলাফল হবেই,বিশ্বাস রাখো নিজের উপর।
(১৪)যথাযথ উত্তর:-উওর নিজের ভাষায় লেখো।বিষয়বস্তু বুঝে নিজের ভাষায় লেখো।গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো underline করবে,এতে তোমাদের উপস্থাপনা আরো সুন্দর হবে।
(১৫)শরীরের যত্ন নাও:-ভয় না পেয়ে সময় নিয়ে পড়ো।শরীরের যত্ন নাও।বেশি পরিমানে জল খাও।পড়ার মাঝে মাঝে পায়চারি করো।এই কয়েক দিন ফাস্ট ফুড না খাওয়ার চেষ্টা করো।অযথা বকাবকি করবে না কারোর সাথে।
ভালো করে পরীক্ষা দাও,বেশী চাপ নেবে না।মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরীক্ষা দাও,নিজেকে প্রমাণ করো।আশা করি তোমাদের সবার পরীক্ষা ভালো হবে।ভালো থাকো,সুস্থ ভাবে পরীক্ষা দাও।

অভিজিত গাঙ্গুলী।।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স সহ স্নাতক ও ইংরেজী সাহিত্যে
স্নাতকোওর।শিক্ষক শিক্ষণে প্রশিক্ষিত।বাংলা সাহিত্যে
স্নাতকোওর করছেন এবং শিশু শিক্ষামূলক গবেষণার কাজে যুক্ত আছেন।

লেখক,বাচিক শিল্পী,শিক্ষামূলক বক্তা,শিক্ষামূলক মনোবিদ ,শিক্ষামূলক প্রফেশনাল ,শিক্ষামূলক প্রেষনাকার,শিক্ষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here