নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সারদা, রোজভ্যালির কায়দায় অল্প সময়ে মোটা টাকা রির্টানের টোপ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা তুলে বেপাত্তা নন্দীগ্রামের এক যুবক। অভিযুক্তের নাম অনুপকুমার দাসী। তার বাড়ি নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রেয়াপাড়ায়। চন্ডীপুর, এগরা, মহিষাদল, হলদিয়ার চৈতন্যপুর এবং হাওড়ার শ্যামপুরে অফিস খুলেছিল। এক লক্ষ জমা রাখলে মাসে ২১ হাজার টাকা রির্টান। এই টোপ দিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। দু’ এক মাস প্রতিশ্রুতিমতো টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরই ব্যবসায় লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাউকে টাকা দেওয়া হয়নি। টাকার জন্য আমানতকারীরা চাপ দিতেই ধীরে ধীরে অফিসের ঝাঁপ পড়তে থাকে। ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা ২৩ মার্চ রেয়াপাড়ায় অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় এব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
রেয়াপাড়া পুলিস ফাঁড়ি থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে অভিযুক্তের বাড়ি। প্রশিক্ষণ নিয়ে ওই যুবক শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটিয়ে বিপুল মুনাফা করার ফন্দি এঁটেছিল। পাঁচটি জায়গায় অফিস খুলে অনেক কর্মী নিয়োগ করে আকর্ষণীয় রির্টানের টোপ দেয়। প্যাড ছাপিয়ে সিল, সই দিয়ে আমানতকারীদের থেকে টাকা তোলা হয়। সেই নথিই সার্টিফিকেট হিসেবে আমানতকারীর কাছে জমা থাকত। রেয়াপাড়ার বিশ্বজিৎ বেরা সাড়ে তিন লক্ষ টাকা, অরূপকুমার মণ্ডল এক লক্ষ টাকা, গৌরী পট্টনায়েক এক লক্ষ টাকা, কুমীরমারার রাজকুমার জানা ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। এছাড়াও অনেক
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ হতেই অভিযুক্তকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন আমানতকারীরা। কিন্তু, তাঁরা সন্ধান পাননি। গত ২১ মার্চ আমানতকারীরা একযোগে অনুপের বাড়িতে হাজির হন। সেসময় বাড়িতে অভিযুক্তের বাবা, মা ছিলেন। অবিলম্বে টাকা ফেরত না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আমানতকারীরা। তার দু’দিন পর ফের অভিযুক্তের বাড়িতে আমানতকারীরা যান। তাকে না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তারপর থেকেই ওই যুবকের বাড়ির লোকজনও এলাকাছাড়া। প্রতারিত বিশ্বজিৎ বেরা বলেন, অভিযুক্তের বাড়ির কাছেই আমার বাড়ি। ওর প্রলোভনে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছি। তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে জমানো এবং এলআইসি থেকে লোন নিয়ে মোট সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ওর সংস্থায় “রেখেছিলাম। আমি প্রতিশ্রুতিমতো দু’মাস রিটার্ন পেয়েছি। সেই টাকা আবার ওর কাছেই জমা করেছিলাম। আমার মতো অধিকাংশই রিটার্ন বাবদ পাওয়া টাকা পুনরায় জমা করে দিয়েছেন। এখন আর টাকা দিচ্ছে না। অভিযুক্তও বেপাত্তা। আমি অনুপকুমার দাসী এবং এজেন্ট স্বপনকুমার দাসীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর করেছি।
ওই চিটফান্ড সংস্থায় কাজ করতেন রেয়াপাড়ার স্বপনকুমার দাসী। তিনি বলেন, আমি ওই সংস্থার অফিসেও কাজ করতাম। বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা তুলে জমা করেছি। শেয়ার মার্কেটে সাময়িক লোকসানের জেরে অনুপ দাসী টাকা ফেরত দিতে পারেনি। বিষয়টি আমানতকারীদের বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু, তাঁরা সকলে এক সঙ্গে টাকা ফেরত চাইছেন। তাতেই সমস্যায় পড়ে গিয়েছে অনুপ।
Leave a Reply